মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার মূল সংস্কারক হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (কঃ)

w

সূফীবার্তা ডেস্ক: পৃথিবীর মানুষ যখন কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা’য়ালাকে ভুলে গিয়ে আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ-নিষেধ পালন না করে বিপদগামী হয়ে পাপে পূর্ণ হয়ে অন্যায়-অত্যাচার-ব্যভিচারে মগ্ন হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তখন মানুষকে আল্লাহর পথে সঠিকভাবে চালিত করার জন্য নবী রাসূলগণকে প্রেরণ করে থাকেন। এক সময় এলাকাভিত্তিক, তারপর নবী প্রেরণ করেছিলেন বিশ্বভিত্তিক।

সর্বশেষ পৃথিবীর মানুষের মুক্তিদাতা মহামানব আল্লাহ তা’য়ালার প্রিয় মাহবুব, নবীকুল শিরোমণি হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মুজতাবা সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লামকে নবুয়ত দিয়ে বিশ্বের মানুষের কল্যাণে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সর্বশেষ পয়গম্বর। তাঁর পর আর কোনো নবী পৃথিবীতে আসবেন না। তিনি বিশ্বজগতের মানুষের ত্রাণকর্তারূপে বিকাশ লাভ করেন।

আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কিত বিধি-বিধান প্রেরণের মাধ্যম হিসেবে নবুয়তকে আল্লাহর নৈকট্যপূর্ণ শ্রেষ্ঠতম অবস্থান বলা যেতে পারে। নবুয়ত হল আল্লাহর অনুগ্রহের দান। আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ প্রদর্শক হলেন নবীগণ। তাই, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ পথ প্রদর্শক। এখন প্রশ্ন হল যে, নবুয়ত যুগের শেষের সাথে সাথে কী বিশ্বের বিপদগামী মানুষের কল্যাণে এবং আল্লাহর পথে চালনা ও নৈকট্য লাভের পথ প্রদর্শক হিসেবে পৃথিবীতে কী কেহ থাকবে না?

এই ব্যাপারে সাহাবাগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লামার নিকট জানতে চাওয়ার পর আমাদের নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম আল্লাহর নিকট আরজ করেন, ‘ইয়া আল্লাহ! আমার উম্মতগণ আপনার বান্দা, তারা আপনার মর্জি মত চলবার যথাসাধ্য চেষ্টা করতেছে। তবুও, তারা অনেক ভুলভ্রান্তি, দোষত্র“টি ও গুনাহ করছে। সংসারের নানা প্রকার আপদবিপদ মানুষের জুলুম হতে নিজেকে বাঁচাতে পারতেছে না। অতএব, এদের কী উপায় হবে?

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘অবোধ শিশুগণ ভালরূপে চলতে না পারলে যেমন মুরুব্বীদের হাত ধরে চলে, তেমনি আপনার উম্মতগণকে আল্লাহ তা’য়ালার হাত ধরে চলতে বলুন।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম আবার আরজ করলেন, ‘ইয়া আল্লাহ! তারা আপনার হাত কিভাবে ধরবে?

আল্লাহ তা’য়ালা বললেন, ‘আপনি আমার রাসূল, তাদেরকে আপনার হাত ধরে শপথ(বায়আত) করতে বলুন। তবেই, তারা আমার হাত ধরলো।’ এরপর সকল উম্মতগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লামার হাত ধরে শপথ গ্রহণ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম পুনরায় আরজ করলেন, ‘ইয়া আল্লাহ! আমি যতদিন জীবিত থাকবো, ততদিন আমার উম্মতগণ আমার হাতের উছিলায় আপনার হাতে শপথ করে আমার আছহাবগণের মত আপনার সন্তুষ্টি লাভ করতে পারবে।’

কিন্তু আমার ওফাতের পর যারা আমার উম্মতের মধ্যে থাকবে, তারা কিভাবে আপনার হাত ধরে শপথ করবে’? আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘আপনার ওফাতের পর আপনার খলিফারূপে নায়েবে রাসূল, আলেমে হাক্কানী, পীর-মুর্শিদগণ সবসময় কেয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে থাকবেন। সেইরূপ গুণবিশিষ্ট ওলী, পীর-মুর্শিদের হাত ধরে যারা শপথ করবে, তারা বাস্তবিকই আমি আল্লাহর হাত ধরলো। আমি তাদের ইহকালে আমার মর্জিমত চালিয়ে বেহেশতে আমার নিকট আনবো।’

আল্লাহ তা’য়ালা কুরআন পাকের অন্যত্র বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ তা’য়ালার তাবেদারী কর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লামার তাবেদারী কর। আর তোমাদের মধ্যে যিনি উলিল আমর তাঁর তাবেদারী কর। এখানে বুঝা যাচ্ছে যে, নায়েবে রাসূল, ওলী, পীর-মুর্শিদের তাবেদারী করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম এবং আল্লাহ তা’য়ালার তাবেদারী করা হয়।

উপরোক্ত বিভিন্ন আয়াতের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জগতের মানুষদেরকে সৎ পথে আল্লাহর রাস্তায় পরিচালনা করার জন্য আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লামার পর ওলী মুর্শিদগণের আবির্ভাব হবে, তাঁরা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালনা করবেন। ওলী এবং আল্লাহ তা’য়ালার মধ্যে যে সম্বন্ধ রয়েছে তাঁকে‘বেলায়েত’ বলে।

ওলীদের বেলায়েত আয়াসলব্দ। এবাদত, বন্দেগী, সাধনা ও ত্যাগের বন্দেগী দ্বারা আল্লাহ তা’য়ালার নৈকট্য ও মিলন লাভ করতে সক্ষম হন। ওলী মুর্শিদগণ শরীয়তের গুপ্ত রহস্য সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করেন। নবুয়ত যুগের শেষ হওয়ার পর বেলায়েত যুগ শুরু হয়েছে। এর স্থায়িত্বকাল কেয়ামত পর্যন্ত বিভিন্ন কিতাবে উলে­খ আছে যে, প্রতি শতাব্দীতে লক্ষাধিক ওলী পৃথিবীতে বিদ্যমান থাকবে। এদের মধ্যে ওলী পরস্পরকে চিনবেন না। আবার অনেকে মাহাত্ম্য লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকবে।

বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে চার শ্রেণীর ওলী বর্তমান থাকবেন। প্রথম স্তর হতে চতুর্থ স্তর পর্যন্ত ওলীগণ বিভিন্ন মর্যাদা সম্পন্ন। সর্ব উপরের স্তরে বিদ্যমান ‘গাউছুল আ’যম’। প্রতি স্তরে নির্দিষ্ট সংখ্যক ওলী থাকবেন। প্রতি শতাব্দীতে অর্থাৎ একশত বছরের জন্য একজন গাউছুল আ’যম থাকবেন। গাউছুল আ’যমের বয়স একশত বছরের কম হলে, তাঁর অবর্তমানে তাঁর নীচের স্তরের ওলী তাঁর স্থান পূরণ করবেন।

এভাবে পরবর্তী স্তর পূরণ হয়ে তাঁরা একে অপরকে চিনেন এবং প্রতি স্তরের শূন্য স্থান উল্লেখিত নিয়মে পূরণ হবে। প্রতি শতাব্দীতে যে একজন মোজাদ্দেদ পাঠাবেন বলে হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে সে মোজাদ্দেদ হলেন ‘গাউছুল আ’যম’। স্থান-কাল-পাত্র ও অবস্থান ভেদে ইনি ‘গাউছুল আ’যম’ উপাধিতে ভূষিত হন।

আমাদের শরীরের কোনো অঙ্গ যথানিয়মে না চললে, এমনকি শরীরও ঠিক না থাকলে, আমরা এর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হই, তেমনই আমরা যখন বিভিন্ন পাপ কার্যে আসক্ত হয়ে বিপথগামী হলে এবং আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ-নিষেধ অমান্য করে আল্লাহর নাফরমানী করতে শুরু করলে আল্লাহ তা’য়ালার প্রদত্ত কলবের অসুস্থতারই লক্ষণ।

এর চিকিৎসার ডাক্তার হলেন ওলী-মুর্শিদগণ। তাই, আমাদেরকে ওলী-মুর্শিদের শরণাপন্ন হতে হবে। ওলীদের নির্ধারিত পথে চললে, তবেই আমাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক উন্নতি সাধিত হবে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব হবে ও বেহেশতের দরজা আমাদের জন্য খোলা থাকবে। আমরা আমাদের নিয়ন্ত্রিত পশুশক্তিকে পরাস্ত করতে পারবো।

ওলী আল্লাহগণ কখনও নিজেদেরকে প্রকাশ (জাহির) করেন না। আল্লাহ তা’য়ালা হতে গাফেল দুনিয়াদারগণ ওলী আল্লাহকে চিনতে পারে না। সূর্য উদয় হলে এটা কি চাঁদ না সূর্য, তা বুঝা যায় তাতে কিরণের প্রখরতা দিয়ে। ওলীগণকে চিনা যায় তাঁর কর্মের মাধ্যমে ও তাঁর আবেগ শক্তির মাধ্যমে।

প্রথমতঃ ওলীগণ মোত্তাকী ও পরহেজগার হয়ে থাকেন। নামাজ, রোজা ইত্যাদি শরীয়তের যাবতীয় বিধান পালন করে এবং শিরক, কুফরী, গুনাহ, শয়তানী স্বভাব প্রভৃতি হতে আত্মরক্ষা করেন।

দ্বিতীয়তঃ তাদের খেদমতে বসলে মন হবে দুনিয়াদারীর কথা ও বিষয় সম্পত্তির ভাবনা দূর হবে এবং আল্লাহ তা’য়ালার মহব্বত ও তাঁর পবিত্র দরবারের আগ্রহ জাগরুক হয়।

তৃতীয়তঃ ওলীগণ দুনিয়াদারীর ব্যাপারে বিশেষ করে সংসারে দৃষ্টি ও আগ্রহ কম রাখেন সংসারের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে আল­াহ তা’য়ালার নৈকট্য লাভের জন্য ধাবিত হয়।

চতুর্থতঃ ওলীগণ কুরআন হাদীসে ও দ্বীনি জ্ঞান সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন। তারা কুরআন হাদীসের আলোকে উদ্ভুত ধর্মীয় যে কোনো সমস্যার সমাধান দিতে পারেন।

কোন ওলীগণ কারামত দেখিয়ে থাকেন। তবে তাঁরা কারামত গোপন রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কোন কোন সময় অজ্ঞাতে তাঁদের কারামত প্রকাশ হয়ে পড়ে। তাঁরা বিশেষ দরকার না হলে ব্যক্ত করেন না।
প্রতি শতাব্দীতে একজন ‘গাউছুল আ’যম’ বর্তমান থাকেন।

তাঁকে চিনবার উপায় হল যে, ওলীগণের যে সকল গুণাবলী রয়েছে তা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান থাকবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন জগত জড় জগত, উদ্ভিদ জগত ও প্রাণী জগত আলমে মুখলুকাতের সবাইর প্রিয় ও সম্মানিত! জ্বীন ও মানবের মাঝে যারা আল্লাহর অনুগত তারা তাঁকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করে থাকেন এবং বিশ্বাস রাখেন। গাউছুল আ’যমগণ বিপদগামী মানুষগণকে আল্লাহ রাসূলের পথে চালনার জন্য পথের(ত্বরিকার) সৃষ্টি করেন।

কাদেরীয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দীয়া, মোজাদ্দেদিয়া ইত্যাদি মা’রেফাতের ত্বরিকাসমূহ ওলী-মুর্শিদগণ দ্বারা দুনিয়াতে জারি হয়েছে।

স্থান-কাল-পাত্র ভেদে এই ত্বরিকা পরবর্তী ওলীগণ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন কায়দায় নিজ নিজ মুরিদগণকে শিক্ষা দিচ্ছেন। প্রচার করে থাকেন ত্বরিকারই মূল উদ্দেশ্য এক।

ত্বরিকতের আভিধানিক অর্থ হল যে, কার্যপ্রণালী, রাস্তা, আচরণ, পদ্ধতি, রীতি, বিশ্বাস বা কর্ম। তবে ইহা গাউছুল আ’যম বা ওলীগণ কর্তৃক প্রদর্শিত চলার নিয়ম। ত্বরিকতকে আধ্যাত্মিকতার রাস্তা বলা চলে। এর মাধ্যমে যতক্ষণ নিজের বে-খুদী বা তন্ময় ভাব না আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে ধর্মীয় পথে নিয়োজিত রাখে।

এমনকি একজন আধ্যাত্মিক জগতের প্রাণপুরুষ হলেন ওলীয়ে কামেল হযরত ছাহেব কেবলা গাউছুল আ’যম মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ। ইনি হলেন মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরীকার স্থপতি এবং এ ত্বরিকার প্রচলন করেন। এর ব্যাপ্তি ছিল তখন উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে।

মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা মূলত কাদেরীয়া ত্বরিকার সাথে সম্পৃক্ত। গাউছুল আ’যম হযরত ছাহেব কেবলা শাহ্সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ কাদেরীয়া ত্বরিকার এ ধারাকে এ দেশের সমাজ সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত করে চিশতিয়া ত্বরিকার অনুসরণে সঙ্গীতকে সাধনার অঙ্গীভুক্ত করে এক নতুন মাত্রার সংযোজন করেন।

ফলে ইহা একটি নতুন ত্বরিকারূপে আত্মপ্রকাশ করে। মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা গভীর আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি আমাদের সমাজ জীবনে সুদূর প্রসারী প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সামাজিক স্থিতিশীলতায় মাইজভাণ্ডারী ভাবাদর্শ ও মাইজভাণ্ডারী গান বিগত শত বছরে চলমান সমাজ জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা গতানুগতিক সূফী মতবাদের এক যুগোপযোগী সংস্কার।

একজন গাউছুল আ’যমের বয়সকাল হল একশত বছর। আমাদের গাউছুল আ’যম হযরত সাহেব কেবলা শাহ্সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ আয়ুস্কাল ছিল প্রায় আশি বছর। তাঁর ওফাতের পর তাঁরই খেলাফতপ্রাপ্ত হয়ে ওলিকুল শিরোমণি মাইজভাণ্ডার শরীফের প্রাণপুরুষ মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী কেবলা কাবা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ গাউছুল আ’যমের আসনে আসীন হন।

বাবাভাণ্ডারী ছিলেন হযরতের ভ্রাতুষ্পুত্র। ইনি জন্মগ্রহণ করার পর হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ কেবলা কাবা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ নবজাত শিশুকে কোলে নিয়ে উর্দুতে বলেন, ‘এ শিশু আমার বাগানের ফুল। হযরত ইউসুফ আলাইহিস ছালামার চেহারা তাঁর মাঝে ফুটে উঠেছে। তাঁকে যত্ন করে রেখো।’

প্রথমে প্রাথমিক দ্বীনি শিক্ষা, তারপর মাদ্রাসার সর্বোচ্চ দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। কথিত আছে যে, বাবাজান কেবলা একদিন গাউছুল আ’যমের কদম দু’খানা এমন শক্তভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন যে, উনি কিছুতেই তাহা ছাড়াতে না পেরে বাবাজানের শরীরে চেয়ারের হাতল দ্বারা প্রহার করতে করতে বদন মোবারক রক্তাক্ত করে দিলেন। এমতাবস্থায় হযরত সাহেবানীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত হয়ে বাবাজানকে ছাড়িয়ে নেন। হযরত সাহেবাণী হযরতকে বলেন যে, ওনার উচিৎ হয় নাই চাঁদের মত সুন্দর ভাইয়ের ছেলেকে এভাবে প্রহার করা। জবাবে হযরত বলতে ছিলেন, ‘তাহা ঠিকই। তাকে আমার একটি চক্ষু দিয়েছি। সে আমার দুটো চক্ষুই চায়। তাকে আমার দুটি চক্ষুই দিয়ে ফেললে আমি চলব কি করে।’ হযরত সাহেবাণী বুঝতে পারলেন যে, এটা তাদের আধ্যাত্মিক মর্যাদার সংঘাত।

তারপর তিনি বাবাজান কেবলাকে বুঝিয়ে বললেন, ‘বাবা আপনি তাঁকে না দেখে থাকতে পারেন না, আবার ওনার নিকট আসলে আপনার প্রাপ্য আদায়ের চেষ্টা করেন, আর তিনি প্রহার করেন। এ অবস্থায় আপনি কি কিছু দিন বাহিরে সফর করবেন? যখন আপনাকে আপনার প্রাপ্য দেওয়ার সময় হবে, তখন তিনি আপনাকে তালাশ করে যা দেওয়ার তা দিয়ে দিবেন। এভাবেই বাবাজান কেবলার আধ্যাত্মিক চক্ষুদান হয়ে যায়।

পরে তিনি হযরত কেবলার নির্দেশে মাইজভাণ্ডার শরীফে এসে গাউছিয়তের মহান দায়িত্বে নিয়োজিত হন। বাবাজান কেবলার স্বীয় মুর্শিদ হযরত কেবলার ওফাতের পর গাউছিয়তের পূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার দ্বিতীয় স্থপতি ও পরিপূর্ণতা দানকারীরূপে সূফী দর্শনের অন্যতম পথিকৃৎ হন।

ভারতবর্ষ উপমহাদেশের সর্বত্র তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তাঁর দরবারে হাজার হাজার ভক্তরা আসতে থাকেন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তাঁরই দরবারে কেহ ফয়েজ বরকতের আশায়, কেহ আত্মিক উন্নতি লাভের প্রত্যাশায়, আবার কেহ নিজ নিজ মকসুদ হাসেলের আশায় আসতে থাকেন। সবাই সন্তুষ্টিচিত্তে সফলকাম হয়ে ফিরে যেতেন। ভক্তদের কল্যাণে ওনাদের অনেক কেরামত প্রকাশ হয়ে পড়ে।

ওলী-মুর্শিদরা কোথাও গেলে নিজ নিজ দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর যেমন আর এক মুহূর্ত থাকেন না, তেমনি এই পৃথিবীর কাজ শেষ হওয়ার পর আল্লাহ তা’য়ালা উনাদেরকে পৃথিবীতে রাখেন না। অনেকে মনে করেন যে, ওফাতের সাথে সাথে ওনাদের রূহানী ফয়েজেতরও শেষ হয়ে যায়। ওলী-মুর্শিদ ওফাতপ্রাপ্ত হলেও তাঁর ফয়েজ জারি থাকে।

হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেছেন, আমি জীবিত থাকা যেমন আমার উম্মতগণের জন্য মঙ্গলজনক, তদ্রপ আমার ওফাতও আমার উম্মতগণের জন্য মঙ্গলদায়ক।’ এর অর্থ হল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম জীবিত থাকা অবস্থায় উম্মতগণ তাঁর দ্বারা যেভাবে হেদায়েতপ্রাপ্ত হতেন, তেমনি তাঁর ওফাতের পর কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর রূহানী ফয়েজ জারি থাকবে। ওলী-মুর্শিদদের ওফাতের পরও তাঁদের রূহানী ফয়েজের অবসান না হয়ে জারি থাকবে।

এরপর গাউছুল আ’যম বাবাভাণ্ডারী কেবলা কাবা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজের মেঝ শাহজাদা শাহ্সূফী সৈয়দ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এ ত্বরিকার সিপাহশালার হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। শাহ্সূফী সৈয়দ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ শরীয়ত ও ত্বরীকতের কামেল ওলী ও বিশিষ্ট আলেম ছিলেন।

শিক্ষা জীবন শেষে বাবাভাণ্ডারীর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। বাবাভাণ্ডারী আপন খলিফাদের মধ্যে যাদেরকে হাত ধরে বয়াত করেন, তাঁর স্থান সকলের উর্ধ্বে এবং তাঁকে তিনি ফয়েজ দান করে ওলীরূপে গড়ে তোলেন। তিনি কুরআন হাদিসের আলোকে সুন্দরভাবে শরীয়ত ও ত্বরীকতের মধ্যে উদ্ভুত সমস্যার সর্বজনগ্রাহ্য যুক্তিপূর্ণ সমাধান দিতেন। এতে সবাই মুগ্ধ হয়ে যেত।

উলে­খিত ওলী মুর্শিদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। হযরত গাউছুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এবং হযরত গাউছূল আ’যম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী বাবাজান কেবলা কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজের সাথে সাক্ষাতের প্রশ্নই উঠে না।

যেহেতু আমার জন্ম হিসেবে তাঁদের সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব ছিল না। তবে, পরবর্তী দুজনের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ থাকা সত্তে¡ও বিভিন্ন ভুল ধারণার বশর্বতী হয়ে আমি যাইনি। বিশেষ ধারণা ছিল ওনাদের বোধ হয় শরীয়তের সাথে সম্পৃক্ততা কম।

পরবর্তী পর্যায়ে যখন জানতে পারলাম যে, মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা শরীয়তের প্রতি মোটেই উদাসীন নয়; বরং শরীয়তের পতাকাবাহক মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার অনুসারীরা নামাজ, রোজা ও অনান্য কাজকর্ম যথানিয়মে করেন ও তাঁদের অনুসারীদেরকে শরীয়ত পালনের জন্য চাপ দেন। তাঁর উপর তাদের ইবাদত বন্দেগীর কথা সকলেই জানেন। আসলে আমার দুর্ভাগ্য।

মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার বিশ্বমাত্রিক রূপদানে বাবাভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজের পৌত্র এবং ওনার মেঝ শাহজাদা শাহ্সূফী সৈয়দ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজের শাহ্জাদা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল­াহু ছিররাহুল আজিজের ভূমিকা সর্বাগ্রে।

হযরত গাউছুল আ’যম বাবাভাণ্ডারী কাদ্দাছিররাহুল আজিজ ও তাঁরই মেঝ শাহজাদা সৈয়দ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছিররাহুল আজিজের সিলসিলায় তাঁকে সাজ্জাদানশীন হিসেবে খেলাফত দান করে গেছেন। বিগত বিংশ শতকের শেষভাগে ও বর্তমানে একবিংশ শতকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে যখন ধর্ম নিয়ে চলছিল চরম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, মানুষ যখন ইসলামের সঠিক রূপরেখা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ধুম্রজালের আবর্তে পরে ঘুরপাক খাচ্ছিল, বাতিল মতাদর্শগুলো যখন ইসলামের লেবেল লাগিয়ে মানুষকে দিশেহারা করে দিচ্ছিল, তখনই তিনি আপন প্রচেষ্টায় বাংলাদেশসহ বিশ্বে ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার দ্বারা মানুষকে সঠিক পথে চলার দিক নির্দেশনা দেন এবং ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রচার ও প্রসারে নিজেকে নিবেদিত করেন।

যুগের বিবর্তনে স্থানে স্থানে মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার ভিতর কিছু সংখ্যক দুষ্ট লোক ইসলাম বহির্ভুত প্রথা চালু করেছিল। যেমন, লাল সালু পরিধান, খাড়– পরিধান, গাঁজা সেবন, চুলেজাটা পাকানো ইত্যাদি।‘মঈন উদ্দিন’ যার অর্থ কিনা ‘দ্বীনের সাহায্যকারী’; তাই তিনি সত্যিই এই ধরায় ১৯৩৮ খ্রীস্টাব্দের ১০ই ফেব্র“য়ারী, ১৩৪৪ বঙ্গাব্দের ২৭শে মাঘ মোতাবেক ১৩৫৬ হিজরীর ৯ই জিলহজ্ব রোজ বৃহস্পতিবার আবির্ভুত হলেন মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার‘সংস্কারক’ হিসেবে।

১৯৬২ সনের ৫ই এপ্রিল মোতাবেক ২২শে চৈত্র রাত ২.৩০ মিনিটে ২৪ বছর বয়সে তাঁর আব্বাজান হযরত সৈয়দ আবুল বশর কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ কর্তৃক তাঁকে ডেকে বাবাভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজের বাতেনী ইশারায় একান্ত নিবিড়ে বসিয়ে খাসভাবে বায়াত করানো হয়।

সাজ্জাদানশীন হওয়ার পর থেকেই তিনি মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার সঠিক রূপরেখা সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, ওয়াজ মাহফিল, লেখনী, পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে অবহিত করেন। সেই থেকে তিনি বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে ইসলামী বুনিয়াদী মতাদর্শে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে প্রকৃতপক্ষে শতাব্দীর মোজাদ্দেদের পবিত্র দায়িত্ব পালন করছেন।

হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে যথেষ্ট খ্যাতি এবং প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। তিনি ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত ইসলামের দাওয়াত ও ত্বরিকার কাজে আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া সফর এবং বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম উদযাপন করেন।

১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে “International Association of Sufism” এর সম্মানিত ‘উপদেষ্টা’ (Adviser) হবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। পরবর্তী বছর ১৯৯৭ সালে এ সূফী সিম্পোজিয়ামে সর্বসম্মতিক্রমে জগদ্ববরেণ্য সূফীয়ায়ে কেরামগণ তাঁকে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উক্ত সম্মেলনে তিনি ইসলাম প্রচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার বিভিন্ন দিকসহ মিলাদ মাহফিল, জিকির উপস্থাপন ও পরিচালনা করেন, যা ডক্টর হিসাম কাব্বানীসহ সকল সূফীয়ায়ে কেরামগণ দ্বারা ভূয়সী প্রশংসিত হয়। এরপর এ সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা হয়ে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন।

২০০০ সনের ২৯শে আগস্ট জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্বশান্তি সম্মেলন(The Millenium World Peace Summit of Religious and spiritual Leaders)-এ তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে মহানবী সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম কর্তৃক প্রণীত‘মদীনা সনদের’ আলোকে উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উপর জোর দেন, যা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সত্যিই পাথেয় স্বরূপ। অতঃপর ৩১শে আগস্ট উক্ত কনফারেন্সের সমাপ্তি অধিবেশনে মিলাদ কিয়াম ও মোনাজাত পরিচালনা করে জাতিসংঘের দীর্ঘ ইতিহাসে এক অনন্য অসাধারণ ঘটনার অবতারণা করেন।

২০০০ সনে উজবেকিস্তান সরকার ও ইউনেস্কোর উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বিশ্ব আধ্যাত্মিক সম্মেলন (The Workshop of Sufism and of Religious Dialogue) এ তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রাচীন ঐতিহ্য ও মুসলিম স্থাপত্যের শহর তাসখন্দ, বুখারা, সমরখন্দ প্রভৃতি পরিদর্শন করেন। সেই সাথে জেয়ারত করেন পয়গম্বর হযরত দানিয়েল আলাইহিস ছালাম, হযরত ইমাম বুখারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু, সম্রাট তিমুর প্রমুখ এর মাজার ও কমপ্লেক্স।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ধর্মের উদ্দেশ্য শান্তি আর সূফীরা সেই শান্তির বাণীই প্রচার করেন। তিনি সূফীবাদের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন। এখানে উজবেকিস্তান সরকার প্রধান, বুখারা, তাসকন্দ, সমরকান্দ প্রভৃতি প্রদেশের গভর্ণর কর্তৃক প্রদত্ত যে সম্মান ও ভোজ সভার আয়োজন করা হয়েছে তা তুলনাহীন।

সুন্নীয়ত ও সূফীবাদ এর জন্য তাঁর অদম্য একাগ্রতা, উদ্যোগ, আন্তরিকতা, যোগ্যতা ও প্রেরণায় শুধু বিদেশের মুসলমানই নয়, অনেক অমুসলিম-বিধর্মীও অনুপ্রাণীত হয়েছে এবং তাঁর হাতে এসব অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

এলমে দ্বীনের খেদমতে তিনি বহু মসজিদ, হেফজখানা, এতিমখানা, মাদ্রাসা ও খানকা শরীফ স্থাপন করেছেন। প্রতি বছর এগুলোতে ক্বেরাত, হামদ, নাত ও রচনা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পুরস্কার প্রদান এবং হাফেজদের দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

ঐতিহাসিক জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লাম উদযাপন তাঁর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ১৯৯২ সন হতে এর ধারাবাহিকতা এখনো বহমান। প্রতি বছরই এই মিছিল ও সমাবেশে যোগদান করেন হাজার হাজার নবীপ্রেমিক ও বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সম্মানিত সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্যগণ, কুটনৈতিক মিশনের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরাম প্রমুখ। যার মূল উদ্দেশ্য নবীপ্রেম। অভাব-অসুস্থতা, ঝড়-বৃষ্টি, রোদ সকল প্রতিকুলতাকে উপেক্ষা করে স্বতস্ফূর্তভাবে লাখো লোকের আগমনতো কেবল নবীপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

সূফী দর্শন চর্চা, সূফী মতাদর্শের প্রচার ও প্রসারে নিরলস পরিশ্রম, সাধনা ও সাফল্যের জন্যই ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০৩ইং তারিখে বাংলাদেশ সূফী মজলিশ এর পক্ষ থেকে সূফী সাধক হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে তৎকালীন মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এবং মাননীয় মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত থাকেন। এ সকল বিরল সম্মানের জন্য তিনি আল­াহর দরবারে সবসময় শোকরানা জ্ঞাপন করেছিলেন। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি তার জীবনের ব্রত।

অতএব, একথা নির্দ্ধিধায় বলা যায় যে, তিনি একবিংশ শতকের সূফী সম্রাটরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি হলেন এ যুগের সেরা পথপ্রদর্শক, দিশারী, মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার দিক নির্দেশক।
প্রতি বছর ২৭শে মাঘ এই মহান ওলীয়ে কামেলের পবিত্র খোশরোজ শরীফ ও তার ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত মাইজভাণ্ডার শরীফের একমাত্র দ্বীনি প্রতিষ্ঠান রহমানিয়া মইনীয়া হেফজখানা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের(প্রতিষ্ঠা ১৯৮৭ সাল) বার্ষিক সালানা জলসা এবং নতুন হাফেজদের দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান মহাসমারোহে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামগণ ও পীর-মাশায়েখ সমবেত হন। লাখো লাখো ভক্ত-অনুসারী ও মুক্তি প্রত্যাশী মানুষ তাঁর সান্নিধ্যে এসে আল্লাহ-রাসূল প্রাপ্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল। আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াছাল্লামার আদেশ নিষেধের অর্থাৎ শরীয়তের বরখেলাপ কোনো কাজ করার ইচ্ছা যার মনে উদয় হয়, তখনই বুঝতে হবে তার কলব বা মন কলুষিত হয়েছে। তাকে অবিলম্বে ওলী মুর্শিদের হাতে শপথ গ্রহণ করে আল্লাহ তা’য়ালার আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত। এতে মনের কলুষতা দূরীভূত এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শান্তি ও মুক্তি আসবে।

www.mjfofficial.com

নিউজটি শেয়ার করুন
  • 277
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
y

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *